Posts

Showing posts with the label প্যারোডি

বিশ্বকাপ

(মূল কবিতা – সুকুমার রায়ের আহ্লাদী ) খেলছে ওরা বুক চিতিয়ে, আমরা হেথায় হল্লা দি, জিতলে পরেই মাথায় তুলি, হারলে তবে গোল্লা দি। সি-আর, হামেস, সালার পায়ে কারসাজিটা দেখতে পাই, পোগবা, হ্যারি, টনির গোলেও, চিল্লানোতে কমতি নাই ৷ ব্রাজিল ভাবে জিতবে তারা, খেলবে তাদের নেইমারে, কোথায় খেলা? শুধুই নাটক! ফেলছে হেসে ফ্যাক ক'রে ৷ ইডেন-কাকু খেলছে ভালো, নিচ্ছে ঠিকই গোল খুঁজে, ইভান লুকার পায়ের কাজে হারছে মেসি মুখ বুজে৷ লড়ছে দেখি ইরান জাপান, সাধ্যমত যেমন যার, নাইজিরিয়াও যুদ্ধ করে, যেমন করে স্যুইটজার ৷ এসব দেখে ভাবছি মোরা, বাঁধছি আশা সব বুকে- খেলবে ভারত, সুনীল জেজে, চারটে বছর পর থেকে।

আজকের শব্দকল্পদ্রুম

(মূল কবিতা – সুকুমার রায়ের শব্দকল্পদ্রুম )   ঠাস ঠাস দ্রুম দ্রাম, নেই কোনো খটকা এ আওয়াজ আজ চেনা, গুলি গোলা পটকা। চারিপাশে ত্রাহি রব, ভয়ে কান বন্ধ - স্টেডিয়াম জুড়ে শুধু বারুদের গন্ধ। ফুটবলে মেতেছিল, সুখ তবু নাই রে ! ফাটল ও বোমাখানা দুই ক্রোশ বাইরে ! অক্ষত বাড়ি ফেরা, শুধু এইটুকু আশ, বিধাতার অবিচারে উড়ে যায় ট্রেন-বাস ! বুকে বেঁধে বোমা-ভেস্ট আসে দেখ ঐ রে ! নাই কোনো দয়ামায়া, ভয়ডরও নাই রে ! কত বেশি লোকে মরে, শুধু এই চিন্তা - ভিড়মাঝে খুলল সে, গ্রেনেডের পিনটা। এক নয়, দুই নয়, তিনখানা ফাটে রে ! নিমেষেতে উড়ে গেল তিনশত প্রাণ রে ! থিয়েট...

অবাক আইন

(মূল কবিতা :  একুশে আইন ) হীরক রানীর আপন দেশে, আইন কানুন সর্বনেশে! রংবদলের আভাস পেলো, সরকারী সব জায়গাগুলো, নীল-সাদাতে রাঙাও ঘর -     ট্যাক্সে পাবে বিশাল ছাড় ।। সেথায় আইন ভাঙতে হলে, টিকিট কাটো রানীর দলে; ভাঙলে আইন বিনটিকিটে - মাওয়ের লেবেল লাগবে পিঠে, বড়ই কড়া হীরক রানী,     টানতে হবে জেলের ঘানি ।। কারুর যদি ইচ্ছে করে, চিটফান্ডের ব্যবসা করে, অল্প কিছু টাকার থলে, ঢুকতে হবে রানীর দলে, নাই যদি রও ওনার সাথে,     হাতকড়াটি পড়বে হাতে ।। অ্যাক্টো করে কেউ যদি চায়, প্রাইজ পাবে টপকে সবায়, হেথায় ভায়া সবই জোটে, জিতলে পরে বিপুল ভোটে, রানীর আশীষ থাকলে মাথায়,     ইমপসিবল কিছুই তো নয় ।। যে সব লোকে কমিক আঁকে, মজাচ্ছলে, কাজের ফাঁকে, মোসাহেবরা তাদের ধরে, একনিমেষে খাঁচায় পোরে, বেচতে বলে বাটি-ঘটি     ফাইন হবে কয়েক কোটি ।। কইলে কথা বিরোধ ক'রে, কন্সপিরেসির দাবী করে, কেউ যদি দেয় প্রমাণ এসে, সাংসদ নয়, গুন্ডা পোষে, চটজলদি খুঁজবে তাকে,     করবে লোপাট প্রমাণটাকে ।।

ঘুষ চুরি

(মূল কবিতা :  গোঁফ চুরি ) হেডঅফিসের বড়বাবু দিনের শেষে শ্রান্ত, ব্যাগ গোছাতে চেঁচিয়ে ওঠেন, "এইদিকে আয় কান্ত"। ছোকরা পি-এ কান্তচরণ হুঙ্কারেতে কাঁপে, ইতিউতি এপাশওপাশ পরিস্থিতি মাপে। শান্ত বসের কি যে হলো, পাল্টে গেল ভোল; হকচকিয়ে কান্ত শুধায়, "কে পাকালো গোল? ফায়ার করুন, সবায় জানান, ডাকব নাকি পুলিশ?" "লিগ্যাল প্রসেস? পাগল নাকি? হতচ্ছাড়া ফুলিশ!" "সাবধানেতে কইবি কথা, সবার ঘোরাঘুরি," বাবু বলেন ফিসফিসিয়ে, "ঘুষ গিয়েছে চুরি!" চমকে গিয়ে কান্ত ভাবে, এও কি হয় সত্যি! বাবুর ঘুষের প্রসাদ পেয়েই লাগছে গায়ে গত্তি। ঠিকই শুনি, দিন কখনো সবার সমান যায় না, ঘুষের টাকাও যাচ্ছে চুরি, কক্ষনো যা হয় না। রেগে আগুন তেলে বেগুন, ফুঁসে বলেন তিনি, "একশ মোটে এক প্যাকেটে, কে দিল কি জানি! জানলে পরে নিতুম না খাম, কে করে হাত ময়লা?! এই ক'টাকা নেয় তো শুধু পাড়ার মোড়ের গয়লা। লাগছে যেন দিনদুপুরে করলো আমায় জবাই, ঠিক সময়ে কাজ হাতিয়ে সুযোগ খোঁজে সবাই।" অনেক ভেবে বলেন, "এসব চলবে না আর হেথায়, ঘুষ মেরে কেউ পার পাবে না, যায় দেখি সব কোথায়! কাজের আ...

আবোল তাবোল

(বহুদিন ধরে প্যারোডি লেখার চেষ্টা করার ইচ্ছে। তাই  এই বিখ্যাত কবিতা দিয়ে শুরু করলাম) আয়রে তোরা গুন্ডা যারা         টাঙ্গিখানি বাগিয়ে আয়, যেথায় যখন ইচ্ছে হবে         গলার নলি নামিয়ে আয়। আয় এখানে দাদার টানে         নাইকো চিন্তা নাইকো ডর, আয়রে হেথায় দাদার ছায়ায়         খুন বা জখম যাই না কর। আয় মা-বোন ঘুচিয়ে বাঁধন         তোদের পিছে মা আর মাটি, আসুক ওরা লালদলেরা         মাথায় বসাস রামদা-বঁটি। আমার দলের অসম্মান?         মাতবি তোরাও রঙ্গেতে, দল বেঁধে সব ঢুকবি ঘরে         করবি রেপ আজ ছন্দেতে।