Posts

Showing posts with the label হাবিজাবি

দাদু

কয়েকটা ছোট ছোট গল্প শোনাবো বলে আজ সকালে উঠেই ল্যাপটপটা খুললাম। আসলে কাল বিকেল থেকে বড্ড দাদুর কথা মনে পড়ছে। আজ পাঁচ বছর হয়ে গেল মারা গেছেন উনি। হ্যাঁ, নমাসে ছমাসে মনে পড়ে বইকি ওনার কথা। কিন্তু কাল থেকেই বারবার দাদুর বিভিন্ন স্মৃতি মনের মাঝে ভেসে আসছে। আমাকে আর দাদাকে প্রচণ্ড ভালোবাসতেন। আমাদের যেকোনো রেজাল্ট, প্রাইজ বা অন্য যেকোনো ভালো খবর সমস্ত আত্মীয়স্বজনকে জানানোটা ছিল ওনার কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয়। মা-বাবা-ঠাকুমা কেউই এই আনন্দ থেকে কখনও বঞ্চিত করেনি দাদুকে। সেই ঘুরতে গিয়ে হাতির পিঠে চড়া, রিকশাভাড়া নিয়ে অকারণ তর্ক, কাউকে না বলেকয়ে ডায়মন্ডহারবার ঘুরতে চলে যাওয়া, বুড়ো বয়সে গোগ্রাসে গল্পের বই গেলা – কতশত স্মৃতি জড়িয়ে আছে লোকটাকে ঘিরে। সব তো আর বলার সুযোগ হয় না, তাই ওসবের মধ্যে থেকেই কয়েকটা গল্প শোনাই আপনাদের।   দৃশ্য ১   রান্নাঘর থেকে ঠাকুমা সবে বাটিভর্তি মুড়ি নিয়ে হাঁটা লাগিয়েছে দাদুর ঘরের দিকে, হন্তদন্ত হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এল ব্যাজারমুখো লোকটা। আর সকাল সকাল এরকম চেহারার মানে একটাই হতে পারে – প্রাতঃকৃত্য ঠিকঠাক হয়নি আজ।  "এই তো, খাবার নিয়ে আসত...

ডিমের কিমা

শাকাহারী লোকজনের সাথে একযোগে রান্না করে ডিনার করার একটাই বোধহয় সুবিধে, বেশ কিছু নতুন রেসিপি ট্রাই করার ইচ্ছে জাগে। মানে সবজি-পাতি তো সেই 'থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়'। মাংসাশী লোকেদের কাছে যেরকম অনেক অনেক উপায় থাকে। একদিন মুরগি দিয়ে মুসল্লম, একদিন ট্যাংরা মাছের বাংলা ঝোল, অন্য একদিন ষাঁড়ের লেজের delicacy তো সপ্তাহান্তে হাঁসের রোস্ট কি ব্যাঙের পা ভাজা। কিন্তু এই শাকপাতা খাওয়া লোকজনের সাথে খেতে গেলে একই সবজি দিয়ে নতুন নতুন ডিশ বানানো ছাড়া আর গতি নেই। সেই সুবাদেই আজ একটা নতুন রান্না করলুম আর তারই ফল এই লেখা। প্রথমেই বলে রাখছি, ডিশটার নাম দেখে যতই ভুরু কোঁচকান না কেন, ডিম কিন্তু নিরামিষ জিনিস। দ্বিতীয় কথাটা হলো, এই রান্নার আইডিয়াটার জন্য একরাশ ধন্যবাদ গুগলের প্রাপ্য। তবে হ্যাঁ, রেসিপিতে নিজস্বতা অফ কোর্স রয়েছে। আর সবশেষে বলি, রান্নাটা এক দাদার সাথে হাত লাগিয়ে হয়েছে। সিংহভাগ কৃতিত্ব তারই পাওনা। তবে নেহাত সে গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত বলে লেখালিখি করে না, তাই ফাঁকতালে কেতা মেরে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগটা আমি পেয়েছি। তবে চাপ নেই, রেসিপি মেনে রান্নাটা করে ভালো লাগলে মন খুলে প্রশংসা করবেন, কিছুটা...

সেই লোকটা

সালটা ১৯৯৩ বোধহয়।  তখন সদ্য সদ্য পড়তে শিখেছি। মানে শুধু স্বরবর্ণ ব্যাঞ্জনবর্ণ নয়, রীতিমত উপুড় হয়ে শুয়ে বুকে বালিশ গুঁজে, ছোট্ট ছোট্ট পা দুটো দোলাতে দোলাতে গল্পের বই গোগ্রাসে পড়ার কথা বলছি। ওই সময়টাকে আজকালকার ছেলেমেয়েরা কল্পনায়ই আনতে পারবে না বোধহয়। বাড়িতে খুব ছোট্ট একটা সাদা-কালো টিভি একমাত্র বিনোদনের মাধ্যম। তাও সিরিয়াল বা সিনেমা (মানে আমি গুগাবাবার কথা বলছি না) দেখার ব্যাপারে বেশ বড় বয়স অবধি আমার নিজের ইচ্ছে বা বাবা-মায়ের অনুমতি কোনটাই ছিল না। অবসর সময়ে বিনোদন বলতে তাই বিভিন্ন স্বাদের গল্পের বই। আর বাড়িতে সাড়ে পাঁচ বছরের বড় বইপাগল দাদা থাকায় গল্পের বইয়ের অভাব কখনই হয়নি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সমস্ত ধরনের বই পড়তে দেওয়া হত না তখন (অবশ্য ওই বয়সে আমাকে 'লজ্জা' পড়তে দিলে কিছু বুঝতাম তো না-ই, উল্টে হয়তো কৌতুহলের চোটে বখেই যেতাম), তাই নতুন পুরনো আনন্দমেলাই ছিল প্রধান সঙ্গী। তো এরকমই একদিন ১৯৯১ সালের একটা আনন্দমেলা (স্মৃতির ওপর ভর করে বলছি, মোটের ওপর বেশ পুরোনো) হাতে পাই বাড়ির কোনো এক কোণ থেকে আর ধুলো ঝেড়ে নিয়ে গিয়ে বসি বিছানায়। সেই সংখ্যাটা ছিল এক বিস্ময় বালক কে নিয়ে, যে কিনা মাত্র ...