Posts

Showing posts with the label গল্পগুজব

ছোট্ট দুটি গল্প

বহুদিন কিছু লেখা হয়নি, মানে কাজের চাপে আর তালেগোলে একেবারেই সময় করে ওঠা হয় না। এদিকে অনেক কিছু লেখার প্ল্যান করে রেখেছি। আস্তে আস্তে আবার লেখার অভ্যেসটা ফিরিয়ে আনতে হবে। তাই ভাবলাম আজ ছোট্ট দুটো গল্প দিয়েই শুরু করি। ঠিক গল্প নয় যদিও, সত্যি ঘটনা। দুটো ঘটনাই শিকাগো নিয়ে। সেরকম মারাত্মক স্পেশ্যাল কিছু নয়। তবে কয়েকদিন আগেই জানতে পারলাম এই দুটো ঘটনার কথা, আর আমার মনে হয় বাকিদের জানানোটাও একটা কর্তব্য। আজ আমরা যা করব, তা যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটার একটা জ্বলন্ত উদাহরণ এটা। গল্প ১   বিখ্যাত (বা কুখ্যাত) ক্রিমিনাল আল কাপোনের নাম নিশ্চয়ই শুনেছেন। একসময় শিকাগোর সর্বেসর্বা ছিলেন এই মাফিয়া। যেকোনো রকমের ক্রাইমেই তাঁর সুনাম আর পারদর্শিতা দুইই ছিল। খুন, জখম, রাহাজানি থেকে শুরু করে ড্রাগ বা মেয়ে পাচারের ব্যবসা সবেতেই সমান ছিলেন আল কাপোনে। আর এই করে করে প্রচুর বড়লোক হয়ে গিয়েছিলেন। খুবই স্বাভাবিক, নয় কি? তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হল যে কোনোদিন আইনের কাছে পরাস্ত হননি আল কাপোনে। পুলিশ তাকে ধরলেও বিচারকের শ্যেনদৃষ্টি এড়িয়ে সবসময়ই ফাঁক খুঁজে বেরিয়ে আসতে প...

কাল্পনিক

বহুদিন কিছু লেখা হয়না। আসলে জীবনটা বড্ড ম্যাড়মেড়ে হয়ে গেছে। আমি আবার জীবন থেকেই গল্প খুঁজি কিনা। যাই হোক, এটাও একটা সত্যি ঘটনা থেকে নেওয়া। তবে গল্প না বলে অভিজ্ঞতা বলাই ভালো। আর হ্যাঁ, স্থান না বদলালেও কাল আর পাত্র একটু বদলে দিলাম। *** শনিবারের দুপুর। মানে ওই চারটে মত বাজে বোধহয়। এ পোড়া দেশে তো ছাই গ্রীষ্মকালে সন্ধ্যে বলে ব্যাপারটাই উঠে গেছে। সূর্য পশ্চিমের আকাশে ঢলতে শুরুই করে সেই সাতটার পর। দেশে যখন থাকতুম, ওই সময়টায় খেলাধুলো সেরে ফিরে আসতে হত বাড়িতে। গোধূলিবেলার আকাশে তখন কোটি কোটি নীড়মুখো পাখিদের ভিড়। পাড়ার সব বাড়িতে একে একে আলো জ্বলে উঠছে আর ভেসে আসছে একের পর এক শাঁখের আওয়াজ। নাহ, বড্ড নস্টালজিক হয়ে পড়ছি। সেসব দিন যখন ফিরে পাওয়া যাবে না আর, অহেতুক স্মৃতিচারণ করে খুব বেশি লাভ নেই। তার চেয়ে বরং যে গল্পটা, থুড়ি, যে অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেওয়া শুরু করেছিলাম, সেখানে ফিরে যাই। হ্যাঁ, এটা গত শনিবারের কথা। দুপুরের খাওয়া সেরে একটা হালকা ঘুম মেরে দিয়ে তিনটের দিকে উঠে মনে হল, এমন সুন্দর বিকেলটা ঘরে বসে কাটানোর মানেই হয় না। কিছু না হলেও একটু খেলতে যাওয়া উচিত। যেমন ভ...

যুদ্ধজয়

(ফেসবুকের নিউজ ফিডে ভেসে ওঠা একটা পোস্ট থেকে অনুপ্রাণিত। দুর্ভাগ্যক্রমে পরে আর খুঁজে পেলাম না তাই কার পোস্ট বলতে পারলাম না। দুঃখিত)   "বেরিয়ে যাও, যেখানে ইচ্ছে যাও। খালি আমাকে আর জ্বালিও না। তোমার কেনা দাসী পাওনি যে যা চাইবে তাই হবে।" সজোরে মুখঝামটা দিয়ে বলে উঠল তিতলি। আমার সহধর্মিণী। তিতলি শব্দটার বাংলায় কোনো আলাদা অর্থ হয় কিনা ঠিক জানি না, হিন্দিতে মানে হল গিয়ে প্রজাপতি। তবে সেই বলে না 'কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন' কিংবা 'হাড় চামারের নাম কৃপাসিন্ধু'; এটা বোধহয় তার সার্থক উদাহরণ। আমার বৌয়ের নামটা যতই মিষ্টি হোক, প্রজাপতি যতই ফুলে ফুলে মধু খেয়ে বেড়াক, জন্মের পর এর মুখে কেউ নিশ্চয়ই ক্ষুর ছুঁইয়ে দিয়েছিল। একবার রেগে গিয়ে মুখ খুললেই মনে হয় যেন গায়ে চাবুক পড়ছে। বাক্যবাণে ফালাফালা করে দেয়। আজও সেই দশা। তাও পরিবেশ একটু লঘু করার জন্য বললাম, "তুমি রাগলে না হেব্বি দেখায় মাইরি। নতুন করে প্রেমে পড়ে যেতে ইচ্ছে হয়।" কিন্তু কপালে শনি নাচছিল সেটা সকালে উঠে খবরের কাগজ তুলতে গিয়ে যখন পাশের ফ্ল্যাটের ঝুনিবৌদিকে দেখি, তখনই বুঝেছিলাম। ঝুনিবৌদির সুনাম আছে পুরো কমপ্লেক্...

ফিরে আসা

(একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে) মিনিট পঁচিশ আগেই সেজমামা ফোন করে জানিয়ে দিয়েছিল যে হাসপাতালের কাজ মিটে গেছে। শনিবারের বিকেল বলে অনেকেরই ভয় ছিল হয়তো আজ কাউকে পাওয়া যাবে না। কিন্তু ভাগ্যের জোরেই হোক, কি মামার প্রশাসনিক মহলে বিস্তর চেনাজানার সুবাদেই হোক, ঘণ্টা তিনেকের মধ্যেই ডেথ সার্টিফিকেট দিয়ে পোস্টমর্টেম করে মৃতদেহ রিলিজ করে দিয়েছে হাসপাতাল থেকে। ফোনে কথা শেষ করে ছোটমামা খবরটা জানাতে মাসিদের পাড়ার সুকান্ত বলে একটু সবজান্তা টাইপের ছেলেটা সেটাই বলেছিল, "লাকি-লি আজই হয়ে গেল সবকিছু। এখন বডি নিয়ে এলেই তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়তে হবে।"  শুনে বেশ অদ্ভুত লেগেছিল। মৃত্যুর অব্যবহিত পরই যত নিকট আত্মীয়ই হোক না কেন, বাবা-মা-দাদা-বোন যেই হোক, সব সম্পর্ক মুছে দিয়ে নিজগুণে তারা 'বডি' হয়ে ওঠে। 'ছেলেটাকে কখন শ্মশানে নিয়ে যাবে' না বলে সবাই জিগ্যেস করে 'বডিটা কখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে'। কোনও কোনও শুভাকাঙ্ক্ষী আবার একধাপ এগিয়ে বলেন, 'এইবেলা বেরিয়ে গেলে ভালো, জলদি মিটে যাবে ওদিকে'।  অবশ্যই ! একজন যখন স্বার্থপরের মতন মারা যেতে পেরেছে, তার সবকিছু যত তাড়াতাড়ি মিটিয়ে দেওয়া যায় ...

ক্রিয়েটিভ

"আজকের এই ক্রিয়েটিভ রাইটিং প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার পেয়েছে . . ." সঞ্চালকের ঘোষণা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই স্টেজে উঠে এল ছেলেটা। শৌভনিক ব্যানার্জি। শান্তশিষ্ট চেহারার বাচ্চা ছেলে। পুরস্কার নেওয়ার পর দেখলাম সঞ্চালক ওকে কানে কানে কিছু একটা বলল। ছেলেটা আস্তে করে মাথা নেড়ে দেখলাম উইংসের ভেতর ঢুকে গেল। আসলে আমরাই বলেছিলাম যে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষ হলে ওর সাথে দেখা করতে চাই। ওর লেখা গল্পটা পড়েই মনে হয়েছিল ছেলেটার সাথে একবার দেখা করা উচিত। বাকি জাজেরাও একবাক্যে বলেন যে এরকম যে লেখে তার সাথে একবার দেখা করে লেখালেখি চালিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দেওয়া উচিত। অনেকদিন পর এরকম কোনো জায়গায় জাজ হয়ে এসেছি। আমার একসময়ের ছাত্র সম্বিত অনেক জোর করায় আসতে বাধ্য হলাম। এসে দেখি আমি ছাড়া আরও দুজনকে এনেছে এরা। কিন্তু দুজনেই অনেক তরুণ। একে বয়স্ক, প্রবীণ, অভিজ্ঞতা বেশি; তার ওপর বহুদিন ধরে বাংলার সাহিত্যমহলে নাম রয়েছে। তাই বিষয় নির্ধারণ করার ভার আমার ওপরেই পড়েছিল। একটু ভেবে আমি বললাম একটা পরিচ্ছেদ দিয়ে দেওয়া হোক। তার ওপর লিখতে হবে প্রতিযোগীদের। কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প যার যা ইচ্ছে লিখতে পারে। বলা বাহুল্য, কে...

অস্তরাগ

।। ১ ।। "তারপর রাজকন্যা মৈত্রেয়ীকে অত্যাচারী রাজা চন্দ্রনাথ জোর করে ধরে নিয়ে যায় বিয়ে করবে বলে। মৈত্রেয়ীর বাবা রাজা হলেও আসলে ছিলেন চন্দ্রনাথের অধীনেই। চন্দ্রনাথের বিরোধিতা করার মত লোকবল, বাহুবল বা মনোবল কোনটাই ছিল না তার। তাই এই অনাচারের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারলেন না তিনি। যথাসময়ে তাদের বিয়ে হয়। এদিকে মৈত্রেয়ীর জীবনে সুখ বলতে কিছু রইল না আর। সে তখন অসহায়ভাবে পথ খুঁজছে রাজার কবল থেকে মুক্তি পাওয়ার। এসময় তার আলাপ হয় নীলাব্জ নামে একজনের সাথে। নীলাব্জ চন্দ্রনাথেরই বন্ধু, রাজকার্য চালাতে সাহায্য করত। শান্ত, বুদ্ধিমান, স্থিতধী নীলাব্জকে প্রথম দেখায়ই মৈত্রেয়ীর খুব ভালো লেগে যায়।" " স্থিতধী মানে কি যেন মা?" "মানে ও কাজের সময় খুব বুদ্ধি করে চলত আর যেকোনো বিপদ থেকে শান্তভাবে বেরিয়ে আসত।" "আচ্ছা, তারপর বলো . . . " "তারপর নীলাব্জর সাথে মৈত্রেয়ীর খুব তাড়াতাড়ি ভালো সম্পর্ক হয়ে গেল। আর মৈত্রেয়ীও ওর কাছে নিজের সব দুঃখের কথা খুলে বলল। নীলাব্জ ইতিমধ্যেই মৈত্রেয়ীকে খুব ভালোবেসে ফেলেছে। ওর এই কষ্টের কথা শুনে ঠিক করল চ...