Posts

চলা

সাগরমাঝে ছোট্ট একটা দ্বীপ, যেন রূপকথারই সবপেয়েছির দেশ - স্বপ্নালু চোখে চাই, আনন্দ খুঁজি হেন, চাই না তো কোনো দুঃখ-কষ্ট-ক্লেশ। খুঁজে ফিরি সেই সুখ; যদি জোটে, বুঝেও বুঝি না, জীবন সেথা থেমে - দিনগুলো সব ছদ্মসুখেরই বটে, মুক্তি খুঁজি অগাধ জলে নেমে। দূরপানেতে ভাসছে দেখি তরী, আমার মতই লক্ষ্যহারা বুঝি; সাঁতরে গিয়ে আঁকড়ে তাকে ধরি, একসাথেতে সুখের হদিশ খুঁজি। সেই যে শুরু, তিনটি বছর পার; চলছি তবু, হর্ষ সদাই মনে, জীবনতরী বাইব জীবনভর - ঝঞ্ঝা যতই আসুক ঈশানকোণে।

কথোপকথন নাকি খিচুড়ি

রোববারের সকাল। সাতটার দিকে হঠাৎ কোনো এক অজানা কারণে ঘুমটা চটকে গেল। অবশ্য তাতে খুব বেশি কিছু এল-গেল না। মানে এই পি-এইচ-ডি -এর জীবনে রবি-সোম সবই একরকম। অগাধ সময় পাওয়া যায়, কিন্তু করব করব করে আর কিছুই করা হয়ে ওঠে না। এমনকি আমার তো এ সন্দেহও হয় মাঝে মাঝে যে আদৌ শেষ অবধি ডিগ্রীটা পাব তো! যাকগে, ঘুমটা যখন ভেঙেই গেল, অহেতুক সময় নষ্ট না করে কিছু কাজের কাজ করবই, এই ভেবে বেজায় উৎসাহ নিয়ে উঠে পড়লাম। ফ্রেশ হয়ে এক কাপ চা বানিয়ে কি করি কি করি ভাবতে ভাবতে অভ্যাসবশে ল্যাপটপটা অন করে ফেলেছি, তখনই দুম করে আইডিয়াটা মাথায় চলে এল। অনেকদিন ব্লগটায় লেখা হয়নি, আজ বরং একটা কিছু লিখে ফেলা যাক। তো মেল-টেল চেক করে চুপ করে বসে ভাবছি কি লিখব, এমন সময় - 'পিড়িং'। মানে ওই আর কি - কেউ একটা এই সাতসকালে চ্যাট করে সময় কাটাতে চায়। খুলে দেখি, আমার এক দূরসম্পর্কের দাদা, যার সঙ্গে আমার বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তার আবার সদ্য বিয়ে হয়েছে, মানে একটু বেশি বয়সেই। আর বিয়ের পর থেকেই, জানি না কেন, এই দাম্পত্যজীবন নিয়ে আমার কাছে নানা পরামর্শ চায়। বস্তুত, বিয়ের পর থেকে অন্য কিছু নিয়ে আর কথা বলেই না আজকাল। আজও সেরকমই কিছু হবে ...

একা

মাঝরাত্তিরে একলা সাথী কফির কাপে ধোঁওয়া; আবছা আঁধার তোকেই খোঁজে - মনখারাপের ছোঁওয়া। তুষারপাতের ঠান্ডা হাওয়ায় বাজছে করুণ সুর - আজকে বড়ই অবুঝ স্মৃতি; তোর নেশাতেই চুর। রাত কিবা দিন শুধু তুইময়, তোর চিন্তায় মগ্ন; আজ তবু ঘরে একা বসে রই আমি, কফি আর স্বপ্ন।

শীত

শিশির জমে ঘাসের 'পরে, মলিন রঙের খেলা, শরত বলে, 'আর দেরী নয়, এবার যাওয়ার পালা।' গাছের পাতা লুটায় ভূমে, শুষ্ক হলো ধরা; শীতের কবল হঠাৎ দেখি নাড়ছে দোরে কড়া। স্মৃতির পটে উঠল ভেসে - শীত মানে তো আয়েস, পৌষপাবণে পিঠের সাথে খেজুর গুড়ের পায়েস; শীত মানে তো মায়ের হাতে গরম কাপড় বোনা, খাবার পাতে নিত্যনতুন সবজি আনাগোনা। শীতের ভোরে সবাই মিলে বনভোজনে দূরে, শীত মানে যে সরস্বতী - অঞ্জলি এক সুরে। আজ এখানে শীতটা আছে, হারিয়ে গেল বাকি, এগিয়ে চলার ছদ্মসুখে জীবন দিল ফাঁকি। সতেজ মধুর সেই শৈত্য, স্বপ্নসুখে গাঁথা; তুষারপাতে হাঁটছি একা - শুষ্ক মলিন হেথা।

হত্যা

রাত তখন ঐ দশটা হবে, একলা মেয়ে সে ফিরছে ঘরে; সুন্দরী আর স্বাস্থ্যবতী - কামুক পুরুষ লুফেই নেবে, অভিজ্ঞ চোখ যাচাই করে। কুয়াশা ধীরে রাস্তা ভরে, ল্যাম্পপোস্টে আবছা আলো; এগিয়ে চলি এক পা-দু' পা - দেখতে লাগি দু'চোখ ভরে, সত্যি এ মেয়ের গড়ন ভালো। নির্জন পথ, শীতের রাত- কুকুরগুলোও গভীর ঘুমে, হঠাৎ দেখি চার মস্তান - বাড়ায় তারা হিংস্র হাত- হতভাগী আজ পুড়বে কামে। আড়াল থেকে দেখতে থাকি চারজনেতে ঘিরে ধরে, শীতের রাতে উষ্ণ দেহ - আর কিছু না রাখল বাকি, তৃপ্ত দেহ ক্ষণিক পরে। এগিয়ে দেখি সব পালালে, দু'খানা শরীর, রক্ত ঝরে। চমকে দেখি দ্বিতীয়টাকে - গভীর ক্ষত হৃদয়জালে - নিহত বিবেক রইল পড়ে।

আলসেমি

আলসেমিটা জাঁকিয়ে বসে মনের মাঝে দিনকে দিন। বছর পঁচিশ কাটল সবে, চল্লিশটা যেদিন হবে - শয্যা ছেড়ে উঠব কিনা সেই আশাটা বড়ই ক্ষীণ! তোর ডাকেতে খেলতে গেলাম কাল বিকেলে ক'মাস পরে - মিনিট পাঁচেক যেই ছুটেছি, বার দুই তিন বল পিটেছি, "আর কেন হে! ক্ষান্ত দে", হাড়ক'খানা বিরোধ করে। থমকে দাঁড়াই চুলকে মাথা, অনেক ভাবি এপাশ ওপাশ - "শরীরের নাম মহাশয়, যা সওয়াবে তাইই সয়", বলেই গেছেন মহান লোকে, হৃদয়মাঝে নতুন আশ। সইল না তো শরীরখানি, আফসোসেতেই মরি; কাঁদছে ব্যথায় মাংসপেশী, ধুঁকছে দেখ হাড়ের রাশি, আর কি করা! এখন শুধু খসবে গাঁটের কড়ি। এবার থেকে দিব্যি জানি, 'আলসেমিটাই সবচে ভালো'; আর হব না ভুলেও রাজি - শরীর নিয়ে মামদোবাজি?! মিথ্যে কেন আমায় বলা, ঘি কেন আর ভস্মে ঢালো!

মনস্বিতা

কৃশকায় দেহ, শ্যামলা বর্ণ, খরখরে দাড়ি গালে, ভাবুক চাহনি ইতিউতি চায়, চিন্তার ছাপ ভালে, বহু আগে কাচা হলদেটে এক পাঞ্জাবী পরনেতে - আনমনা যুবা বটগাছতলে বসে খাতা-পেন হাতে। বহুজনে বলে কবি হওয়া শুধু জীবনের ভুলচুক, আমি তবু হায়, ওর কবিতায় পাই অবিরাম সুখ। গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে চলি সে বটগাছটার পানে, কাছে যেতে কবি মুখ তুলে চায়, হৃদয়ে আঘাত হানে; "নাম কি তোমার?" জিজ্ঞাসে কবি, অন্তর্ভেদী দৃষ্টি; "চাই না সে নাম, হতে চাই শুধু তব অপরূপ সৃষ্টি, নিজের কলমে গড়ে নাও তুমি আমার জীবনখানি।" হতবাক কবি কিছু পরে বলে খাতা-পেন কাছে টানি, "রঞ্জনা নয় বেলা বোসও না, নয় সেন বনলতা - আজ হতে তুমি বিখ্যাত হলে রূপসী মনস্বিতা।"