Posts

ছোট্ট দুটি গল্প

বহুদিন কিছু লেখা হয়নি, মানে কাজের চাপে আর তালেগোলে একেবারেই সময় করে ওঠা হয় না। এদিকে অনেক কিছু লেখার প্ল্যান করে রেখেছি। আস্তে আস্তে আবার লেখার অভ্যেসটা ফিরিয়ে আনতে হবে। তাই ভাবলাম আজ ছোট্ট দুটো গল্প দিয়েই শুরু করি। ঠিক গল্প নয় যদিও, সত্যি ঘটনা। দুটো ঘটনাই শিকাগো নিয়ে। সেরকম মারাত্মক স্পেশ্যাল কিছু নয়। তবে কয়েকদিন আগেই জানতে পারলাম এই দুটো ঘটনার কথা, আর আমার মনে হয় বাকিদের জানানোটাও একটা কর্তব্য। আজ আমরা যা করব, তা যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটার একটা জ্বলন্ত উদাহরণ এটা। গল্প ১   বিখ্যাত (বা কুখ্যাত) ক্রিমিনাল আল কাপোনের নাম নিশ্চয়ই শুনেছেন। একসময় শিকাগোর সর্বেসর্বা ছিলেন এই মাফিয়া। যেকোনো রকমের ক্রাইমেই তাঁর সুনাম আর পারদর্শিতা দুইই ছিল। খুন, জখম, রাহাজানি থেকে শুরু করে ড্রাগ বা মেয়ে পাচারের ব্যবসা সবেতেই সমান ছিলেন আল কাপোনে। আর এই করে করে প্রচুর বড়লোক হয়ে গিয়েছিলেন। খুবই স্বাভাবিক, নয় কি? তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হল যে কোনোদিন আইনের কাছে পরাস্ত হননি আল কাপোনে। পুলিশ তাকে ধরলেও বিচারকের শ্যেনদৃষ্টি এড়িয়ে সবসময়ই ফাঁক খুঁজে বেরিয়ে আসতে প...

দাদু

কয়েকটা ছোট ছোট গল্প শোনাবো বলে আজ সকালে উঠেই ল্যাপটপটা খুললাম। আসলে কাল বিকেল থেকে বড্ড দাদুর কথা মনে পড়ছে। আজ পাঁচ বছর হয়ে গেল মারা গেছেন উনি। হ্যাঁ, নমাসে ছমাসে মনে পড়ে বইকি ওনার কথা। কিন্তু কাল থেকেই বারবার দাদুর বিভিন্ন স্মৃতি মনের মাঝে ভেসে আসছে। আমাকে আর দাদাকে প্রচণ্ড ভালোবাসতেন। আমাদের যেকোনো রেজাল্ট, প্রাইজ বা অন্য যেকোনো ভালো খবর সমস্ত আত্মীয়স্বজনকে জানানোটা ছিল ওনার কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয়। মা-বাবা-ঠাকুমা কেউই এই আনন্দ থেকে কখনও বঞ্চিত করেনি দাদুকে। সেই ঘুরতে গিয়ে হাতির পিঠে চড়া, রিকশাভাড়া নিয়ে অকারণ তর্ক, কাউকে না বলেকয়ে ডায়মন্ডহারবার ঘুরতে চলে যাওয়া, বুড়ো বয়সে গোগ্রাসে গল্পের বই গেলা – কতশত স্মৃতি জড়িয়ে আছে লোকটাকে ঘিরে। সব তো আর বলার সুযোগ হয় না, তাই ওসবের মধ্যে থেকেই কয়েকটা গল্প শোনাই আপনাদের।   দৃশ্য ১   রান্নাঘর থেকে ঠাকুমা সবে বাটিভর্তি মুড়ি নিয়ে হাঁটা লাগিয়েছে দাদুর ঘরের দিকে, হন্তদন্ত হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এল ব্যাজারমুখো লোকটা। আর সকাল সকাল এরকম চেহারার মানে একটাই হতে পারে – প্রাতঃকৃত্য ঠিকঠাক হয়নি আজ।  "এই তো, খাবার নিয়ে আসত...

কাল্পনিক

বহুদিন কিছু লেখা হয়না। আসলে জীবনটা বড্ড ম্যাড়মেড়ে হয়ে গেছে। আমি আবার জীবন থেকেই গল্প খুঁজি কিনা। যাই হোক, এটাও একটা সত্যি ঘটনা থেকে নেওয়া। তবে গল্প না বলে অভিজ্ঞতা বলাই ভালো। আর হ্যাঁ, স্থান না বদলালেও কাল আর পাত্র একটু বদলে দিলাম। *** শনিবারের দুপুর। মানে ওই চারটে মত বাজে বোধহয়। এ পোড়া দেশে তো ছাই গ্রীষ্মকালে সন্ধ্যে বলে ব্যাপারটাই উঠে গেছে। সূর্য পশ্চিমের আকাশে ঢলতে শুরুই করে সেই সাতটার পর। দেশে যখন থাকতুম, ওই সময়টায় খেলাধুলো সেরে ফিরে আসতে হত বাড়িতে। গোধূলিবেলার আকাশে তখন কোটি কোটি নীড়মুখো পাখিদের ভিড়। পাড়ার সব বাড়িতে একে একে আলো জ্বলে উঠছে আর ভেসে আসছে একের পর এক শাঁখের আওয়াজ। নাহ, বড্ড নস্টালজিক হয়ে পড়ছি। সেসব দিন যখন ফিরে পাওয়া যাবে না আর, অহেতুক স্মৃতিচারণ করে খুব বেশি লাভ নেই। তার চেয়ে বরং যে গল্পটা, থুড়ি, যে অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেওয়া শুরু করেছিলাম, সেখানে ফিরে যাই। হ্যাঁ, এটা গত শনিবারের কথা। দুপুরের খাওয়া সেরে একটা হালকা ঘুম মেরে দিয়ে তিনটের দিকে উঠে মনে হল, এমন সুন্দর বিকেলটা ঘরে বসে কাটানোর মানেই হয় না। কিছু না হলেও একটু খেলতে যাওয়া উচিত। যেমন ভ...

যুদ্ধজয়

(ফেসবুকের নিউজ ফিডে ভেসে ওঠা একটা পোস্ট থেকে অনুপ্রাণিত। দুর্ভাগ্যক্রমে পরে আর খুঁজে পেলাম না তাই কার পোস্ট বলতে পারলাম না। দুঃখিত)   "বেরিয়ে যাও, যেখানে ইচ্ছে যাও। খালি আমাকে আর জ্বালিও না। তোমার কেনা দাসী পাওনি যে যা চাইবে তাই হবে।" সজোরে মুখঝামটা দিয়ে বলে উঠল তিতলি। আমার সহধর্মিণী। তিতলি শব্দটার বাংলায় কোনো আলাদা অর্থ হয় কিনা ঠিক জানি না, হিন্দিতে মানে হল গিয়ে প্রজাপতি। তবে সেই বলে না 'কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন' কিংবা 'হাড় চামারের নাম কৃপাসিন্ধু'; এটা বোধহয় তার সার্থক উদাহরণ। আমার বৌয়ের নামটা যতই মিষ্টি হোক, প্রজাপতি যতই ফুলে ফুলে মধু খেয়ে বেড়াক, জন্মের পর এর মুখে কেউ নিশ্চয়ই ক্ষুর ছুঁইয়ে দিয়েছিল। একবার রেগে গিয়ে মুখ খুললেই মনে হয় যেন গায়ে চাবুক পড়ছে। বাক্যবাণে ফালাফালা করে দেয়। আজও সেই দশা। তাও পরিবেশ একটু লঘু করার জন্য বললাম, "তুমি রাগলে না হেব্বি দেখায় মাইরি। নতুন করে প্রেমে পড়ে যেতে ইচ্ছে হয়।" কিন্তু কপালে শনি নাচছিল সেটা সকালে উঠে খবরের কাগজ তুলতে গিয়ে যখন পাশের ফ্ল্যাটের ঝুনিবৌদিকে দেখি, তখনই বুঝেছিলাম। ঝুনিবৌদির সুনাম আছে পুরো কমপ্লেক্...

ডিমের কিমা

শাকাহারী লোকজনের সাথে একযোগে রান্না করে ডিনার করার একটাই বোধহয় সুবিধে, বেশ কিছু নতুন রেসিপি ট্রাই করার ইচ্ছে জাগে। মানে সবজি-পাতি তো সেই 'থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়'। মাংসাশী লোকেদের কাছে যেরকম অনেক অনেক উপায় থাকে। একদিন মুরগি দিয়ে মুসল্লম, একদিন ট্যাংরা মাছের বাংলা ঝোল, অন্য একদিন ষাঁড়ের লেজের delicacy তো সপ্তাহান্তে হাঁসের রোস্ট কি ব্যাঙের পা ভাজা। কিন্তু এই শাকপাতা খাওয়া লোকজনের সাথে খেতে গেলে একই সবজি দিয়ে নতুন নতুন ডিশ বানানো ছাড়া আর গতি নেই। সেই সুবাদেই আজ একটা নতুন রান্না করলুম আর তারই ফল এই লেখা। প্রথমেই বলে রাখছি, ডিশটার নাম দেখে যতই ভুরু কোঁচকান না কেন, ডিম কিন্তু নিরামিষ জিনিস। দ্বিতীয় কথাটা হলো, এই রান্নার আইডিয়াটার জন্য একরাশ ধন্যবাদ গুগলের প্রাপ্য। তবে হ্যাঁ, রেসিপিতে নিজস্বতা অফ কোর্স রয়েছে। আর সবশেষে বলি, রান্নাটা এক দাদার সাথে হাত লাগিয়ে হয়েছে। সিংহভাগ কৃতিত্ব তারই পাওনা। তবে নেহাত সে গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত বলে লেখালিখি করে না, তাই ফাঁকতালে কেতা মেরে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগটা আমি পেয়েছি। তবে চাপ নেই, রেসিপি মেনে রান্নাটা করে ভালো লাগলে মন খুলে প্রশংসা করবেন, কিছুটা...

ফিরে আসা

(একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে) মিনিট পঁচিশ আগেই সেজমামা ফোন করে জানিয়ে দিয়েছিল যে হাসপাতালের কাজ মিটে গেছে। শনিবারের বিকেল বলে অনেকেরই ভয় ছিল হয়তো আজ কাউকে পাওয়া যাবে না। কিন্তু ভাগ্যের জোরেই হোক, কি মামার প্রশাসনিক মহলে বিস্তর চেনাজানার সুবাদেই হোক, ঘণ্টা তিনেকের মধ্যেই ডেথ সার্টিফিকেট দিয়ে পোস্টমর্টেম করে মৃতদেহ রিলিজ করে দিয়েছে হাসপাতাল থেকে। ফোনে কথা শেষ করে ছোটমামা খবরটা জানাতে মাসিদের পাড়ার সুকান্ত বলে একটু সবজান্তা টাইপের ছেলেটা সেটাই বলেছিল, "লাকি-লি আজই হয়ে গেল সবকিছু। এখন বডি নিয়ে এলেই তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়তে হবে।"  শুনে বেশ অদ্ভুত লেগেছিল। মৃত্যুর অব্যবহিত পরই যত নিকট আত্মীয়ই হোক না কেন, বাবা-মা-দাদা-বোন যেই হোক, সব সম্পর্ক মুছে দিয়ে নিজগুণে তারা 'বডি' হয়ে ওঠে। 'ছেলেটাকে কখন শ্মশানে নিয়ে যাবে' না বলে সবাই জিগ্যেস করে 'বডিটা কখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে'। কোনও কোনও শুভাকাঙ্ক্ষী আবার একধাপ এগিয়ে বলেন, 'এইবেলা বেরিয়ে গেলে ভালো, জলদি মিটে যাবে ওদিকে'।  অবশ্যই ! একজন যখন স্বার্থপরের মতন মারা যেতে পেরেছে, তার সবকিছু যত তাড়াতাড়ি মিটিয়ে দেওয়া যায় ...

অবাক আইন

(মূল কবিতা :  একুশে আইন ) হীরক রানীর আপন দেশে, আইন কানুন সর্বনেশে! রংবদলের আভাস পেলো, সরকারী সব জায়গাগুলো, নীল-সাদাতে রাঙাও ঘর -     ট্যাক্সে পাবে বিশাল ছাড় ।। সেথায় আইন ভাঙতে হলে, টিকিট কাটো রানীর দলে; ভাঙলে আইন বিনটিকিটে - মাওয়ের লেবেল লাগবে পিঠে, বড়ই কড়া হীরক রানী,     টানতে হবে জেলের ঘানি ।। কারুর যদি ইচ্ছে করে, চিটফান্ডের ব্যবসা করে, অল্প কিছু টাকার থলে, ঢুকতে হবে রানীর দলে, নাই যদি রও ওনার সাথে,     হাতকড়াটি পড়বে হাতে ।। অ্যাক্টো করে কেউ যদি চায়, প্রাইজ পাবে টপকে সবায়, হেথায় ভায়া সবই জোটে, জিতলে পরে বিপুল ভোটে, রানীর আশীষ থাকলে মাথায়,     ইমপসিবল কিছুই তো নয় ।। যে সব লোকে কমিক আঁকে, মজাচ্ছলে, কাজের ফাঁকে, মোসাহেবরা তাদের ধরে, একনিমেষে খাঁচায় পোরে, বেচতে বলে বাটি-ঘটি     ফাইন হবে কয়েক কোটি ।। কইলে কথা বিরোধ ক'রে, কন্সপিরেসির দাবী করে, কেউ যদি দেয় প্রমাণ এসে, সাংসদ নয়, গুন্ডা পোষে, চটজলদি খুঁজবে তাকে,     করবে লোপাট প্রমাণটাকে ।।